শেষ সম্বল বসতভিটা সন্তানদের লিখে দিয়ে অসহায় পিতার মানবেতর জীবন-যাপন

প্রকাশিত: ৩:৫২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১, ২০২১

শেষ সম্বল বসতভিটা সন্তানদের লিখে দিয়ে অসহায় পিতার মানবেতর জীবন-যাপন

 

পাপুল সরকার স্টাফ রিপোর্টার:
শেষ সম্বল বসতভিটা সন্তানদের লিখে দিয়ে অসহায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন জন্মদাতা পিতা আঃ জলিল সুদু প্রধান। ঘটনাটি ঘটেছে গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার বড় গোপালপুর গ্রামে। এমন হৃদয় বিদারক ঘটনার পর ছেলেরা খোঁজ খবর না নেওয়ায় বর্তমানে অন্যের জমিতে বসবাস করছেন তিনি।

সরেজমিন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বড় গোপালপুর গ্রামের মৃত মনির উদ্দিন প্রধানের ছেলে আঃ জলিল সুদু প্রধান গত ২৩/১০/২০২০ ইং তারিখে সাদুল্যাপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে বড় ছেলে আঃ হালিম প্রধান ও ছোট ছেলে হাফিজার প্রধান-কে শেষ সম্বল বসতভিটা ৩ শতাংশ জমি হেবার ঘোষণা দলিল করে দেয়। উক্ত জমি দলিল হওয়ার পর সেমিপাকা ঘর তোলার কথা বলে বড় ছেলে হালিম প্রধান উক্ত জমিতে থাকা ঘর ভাঙ্গিয়ে চালের টিন, বাস, কাঠ সরিয়ে ফেলে এবং দরজা জানালার ইট ভেঙ্গে ফেলে বাড়ীটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রেখে বর্তমানে লাপাত্তা হয়ে যায়। বড় ছেলে আঃ হালিম প্রধান আঃ জলিল সুদু প্রধানের প্রথম স্ত্রী মমতা বেগমের সন্তান। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত রয়েছেন বলে জানা যায়। একমাত্র শেষ সম্বল বসতবাড়িতে ছোট একটি দোকান ঘর ও মসলার ব্যবসা করে দিনানিপাত করতো সুদু প্রধান। সব কিছু হারিয়ে সহায় সম্বলহীন সুদু মিয়ার দিন কাটলেও বর্তমানে খোঁজখবর রাখছেনা সেনা সদস্য বড় সন্তান মোঃ আঃ হালিম প্রধান। ছোট ছেলে উক্ত জমির অর্ধেক অংশে বসবাস করছে তবে ছোট ছেলের উপর কোন অভিযোগ নেই পিতার। আরও জানা যায়, বাবা মাকে দেখভাল ও ভরণপোষণ করবে বলে সেনা সদস্য বড় ছেলে আঃ হালিম প্রধান কর্তৃক ৩টি সাদা ষ্ট্যাম্পে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে অঙ্গীকার করেন। পিতার কাছ থেকে জমি লিখে নিয়ে পরবর্তীতে আরও কোন যোগাযোগ করেনা আঃ হালিম প্রধান। বর্তমানে বাড়ি ঘর ভেঙ্গে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে পিতা-মাত বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ হইয়া পাশর্^বর্তী প্রতিবেশীর জমিতে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করে আসছেন।

এ বিষয়ে আঃ জলিল সুদু প্রধানের সাথে কথা বললে তিনি সাংবাদিকদের জানান, আমার শেষ সম্বল বসতভিটা বড় ছেলে সেনা সদস্য আঃ হালিম প্রধান ও ছোট ছেলে হাফিজার প্রধানকে হেবার ঘোষণা দলিল করে দেই। বর্তমানে আমাকে উক্ত জমি থেকে উচ্ছেদ করে দিয়েছে। আমার আর কোন জমিজমা না থাকায় উক্ত জমিটুকু ফেরতের জন্য আমি আপনাদের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত বড় ছেলে সেনা সদস্য আঃ হালিম প্রধানের সাথে মোবাইলে কথা বললে তিনি জানান, আমি ১৫ হাজার টাকা দিয়ে জমি ক্রয় করেছি। পিতার ভরণপোষনের জন্য অঙ্গীকার নামায় স্বাক্ষরের কথা জানানো হলে, তিনি বলেন আমি কোন অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করি নাই। (ছবি সংযুক্ত)

এই সংবাদটি 121 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ