আপেলাসি বা ডিপোর্টেশন ও গ্রীসের মনগড়া আইন

প্রকাশিত: ১২:১৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৮, ২০২০

আপেলাসি বা ডিপোর্টেশন ও গ্রীসের মনগড়া আইন

 

শাহনূর রিপন ইউরোপ গ্রীস প্রতিনিধিঃ

গ্রীসে যারা বসবাস করছেন, আপনারা হয়ত শুনে থাকবেন গত দু মাসে ১৬ হাজার আশ্রয়প্রার্থীর আবেদন যাচাই বাছাই করা হয়েছে। সেখান থেকে প্রায় ১১ হাজার আবেদন রিজেক্ট বা নামন্জুর ( Απορριπτική απόφαση) দেয়া হয়েছে ।গ্রীক অভিবাসন ও আশ্রয় মন্ত্রী নতিস মিতারাকিস (Νότης Μηταράκης) বলেন, “এরা অপ্রত্যাশিত অভিবাসী, আমাদের দেশ ও জাতীর নিরাপত্তার জন্য হুমকী স্বরূপ। এদের ৮৫% অর্থনৈতিক অভিবাসী। এদের এদেশে থাকতে দেয়া হবে না,নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।” অর্থাৎ করোনা পরিস্থিতি ভাল হলে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলে সবার ডিপোর্টের কার্যক্রম শুরু হবে। তৃতীয় দেশের অসংখ্য আশ্রয় প্রার্থীদের এয়ারপোর্টে নিয়ে ডিপোর্টের চেষ্টা করবে প্রতিনিয়ত। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের নাগরিক বা পরিচয় নিশ্চিত করা না গেলে এক্ষেত্রে তুরস্ক ডিপোর্ট করার সম্ভাবনা রয়েছে।

গ্রীসে আপেলাসি (Απέλαση) বা ডিপোর্টেশন দুই প্রকার। প্রথমটি দিকিতিকি আপেলাসি (Διοικητική απέλαση) দ্বিতীয়টি ডিকাসতিকি আপেলাসি ( Δικαστική απέλαση)।

Διοικητική απέλαση / দিকিতিকি আপেলাসিঃ

যারা বৈধভাবে বসবাস ও কাজ করার অনুমতি নেই বলে শুধু কাগজের জন্য বন্দী আছেন ফিলোক্সেনিকো কেন্দ্রে বা ক্যম্পে তারা সবাই দিকিতিকি আপেলাসির আওতাধীন। ইমিগ্রেশন ও পুলিশ ডিপার্ট মেন্টের
মহাপরিচালক (διευθυντης) বা উর্ধ্বতন কর্মকর্তা দের নির্দেশ ও সিদ্ধান্তে এ ডিপোর্টেশন বা অাপেলাসি (Aπέλαση) চালু হয়। যে আপেলাসি ৩ মাস পর অটোমেটিক অকার্যকর হয়ে পড়ে। ৩ মাস পর আইনানুযায়ী আপনাকে ছেড়ে দেয়া উচিত। গ্রীসে সাধারণত ইপিরেসিয়াক সিমিয়োমা (υπηρεσιακά σημειώμα) নামক একমাসের মধ্যে নিজে নিজে দেশ ত্যাগ করার একটি নির্দেশনামার কাগজ দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু ইউ মানবাধিকার আইন ভংগ করে গ্রীক সরকার নিজস্ব আইনে ৩ মাসেরটা ১৮ মাস পর্যন্ত বর্ধন করে নিয়েছে। এমন দিকিতিকি আপেলাসি অবৈধ এবং কালা কানুন হিসেবে পরিগনিত ।

Δικαστική απέλαση / ডিকাসতিকি আপেলাসিঃ

দ্বিতীয়টি ডিকাসতিকি আপেলাসি বা আদালতের সিদ্ধান্তে ডিপোর্টেশন। যেমন আপনি যে কোন অপরাধে গ্রীক আইনে দন্ডিত হয়ে কারাগারে গেলেন। আদালত থেকে আপনার রায়ের কাগজে লিখে দিল সাজা শেষ হলে তাকে অবাঞ্ছিত অপ্রয়োজনীয় (Aνεπιθύμητος) অভিবাসী হিসেবে দেশে ডিপোর্ট করা হোক। এমন ডিপোর্ট অনেক কঠিন ও এমন ডিপোর্ট বন্ধ করতে পুনরায় আপনাকে কোর্ট করিয়ে এ ডিপোর্ট কাটানো ছাড়া আপনি মুক্ত হতে পারবেন না এদেশে।১ লা মার্চ থেকে ৩১ শে মার্চ যারা গ্রীসে প্রবেশ করেছে সরকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ও সীমান্তে বিশৃংখলা সৃষ্টির দায়ে দন্ডিত হয়ে এরা ডিকাসতিকি আপোলাসির আওতাধীন হয়ে গেছে। ডিকাসতিকি আপেলাসি ইসোবিয়া (ισόβια) লিখে দিলে আপনার পুরো জীবনে আর আপনি গ্রীসে আসতে পারবেন না বা আসলেও কোন কাগজ বানাতে গেলে ফিংগার দিলে ধরা পড়ে যাবেন। তাই যারা মার্চ বা মার্চের পর গ্রীসে প্রবেশ করেছেন তারা লিখাবেন ২০১৯ সালে এসেছেন।

সরকার হুমকী দিয়েছে যারা দিকিতিকি আপেলাসির আন্ডারে দেশে ফেরত যেতে চাইবে না, সরকারী আইন অমান্য বা পুলিশের সাথে খারাপ আচরন করেছেন ইত্যাদি মিথ্যা লিখে আপনার ফাইল আদালতে পাঠিয়ে আরো আরো ৩ থেকে ১৮ মাসের কারাদন্ডের সিদ্ধান্ত করিয়ে নেবে আদালতের মাধ্যমে। এমনটাই বর্ণিত হয়েছে, যা নিজেদের মনগড়া আইন। যারা গ্রীক ভূখন্ডে মার্চে বা মার্চের পরে পা রেখেছে, তাদের আবেদনের অধিকারও কেড়ে নেয়া হয়েছে, যা জেনেভা কনভেশন রেগুলেশন (article 33) বিরোধী সিদ্ধান্ত। অর্থাৎ এ ফ্যাসিস্ট সরকার যা ইচ্ছে তাই করছে। তবে আইন করা বা বলা এক কথা, আর বাস্তবায়ন করা আরেক কথা। বাস্তবায়ন এত সহজ নয়।

না গেলে জোড় করে পাঠানোও বেআইনী। এটা সৌদি বা মালয়েশিয়া নয়। ইউতে থাকলে গ্রীসকে ইউ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে, আরো মানবিক হতে হবে। গ্রীসের এমন অর্থ নৈতিক সক্ষমতা নেই পুলিশ এসকর্ট দিয়ে এক জনের সাথে তিনজনের প্লেন ভাড়া দিয়ে আপনাকে দেশে পাঠাবে।যেতে না চাইলে, একটু ঘাড়তেড়ামি বা পাগলামি দেখালে এয়ারলাইন্স কতৃপক্ষ আপনার সম্মতি ছাড়া আপনাকে প্লেনে তুলবে না। কারন আকাশপথে নিরাপত্তার ব্যাপার রয়েছে। একটু ভয় না পেয়ে সাহস রাখতে হবে মনে। বিনা কারণে বিশ্বে কত মানুষ বছরের পর বছর কারাবরণ করছে। আপনাদেরও মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে, যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলার। জয় আসবেই ইনশাআল্লাহ। দূতাবাসেরও কাজ রয়েছে এখানে ট্রভেলপাস না দিলে ডিপোর্ট অনেকাংশে কমে যাবে ।বাইরে বের হলে সাথে পাসপোর্ট বহন নিরাপদ নয়। যারা পাসপোর্ট জমা দিয়ে কার্ড নিয়েছেন তাদের ডিপোর্ট পদ্ধতি সহজ করার জন্যই এটা করেছে।

সবাই একটু সাবধানে থাকুন। ইনশাআল্লাহ উপায় বের হবে।

সংবাদটি পড়ুন এবং শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 904 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ