ফেসবুক ও ইমেইলে বিদেশীদের বন্ধুত্বের নামে প্রতারণার ফাঁদ ; বিশ্বাস করে সর্বস্ব হারাচ্ছে অনেকে।,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,, ,,,,,,,

প্রকাশিত: ৬:১২ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৪, ২০২০

হেলাল আহমদ চৌধুরী

ফেসবুক ও ইমেইলের মাধ্যমে পরিচিত হওয়া বিদেশী বন্ধু তিনি হয়ত একজন মার্কিন সেনা অফিসার অথবা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অথবা ইংল্যান্ড আমেরিকার একজন ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার। তিনি তার পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য আপনাকে তার আইডি কার্ড এর ছবি দেখাবে। কিন্তু আপনার এই বিদেশী বন্ধুটি আসলে একজন প্রতারক।

আপনি পুরুষ হয়ে থাকলে সাধারণত একটি সুন্দরী নারীর আইডি থেকে আপনাকে রিকোয়েস্ট পাঠানো হবে, আর আপনি নারী হয়ে থাকলে সুদর্শন পুরুষের ফেসবুক আইডি থেকে আপনাকে রিকোয়েস্ট পাঠানো হবে। ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করার সাথে সাথেই তিনি আপনার অতি ঘনিষ্ঠ একজন বন্ধুতে পরিণত হওয়ার চেষ্টা করবেন। আর আমরা বাঙালিরা স্বভাবগতভাবেই বিদেশিদের প্রতি একটু সহানুভূতিশীল থাকায় খুব সহজেই তাকে বিশ্বাস করি এবং ঘনিষ্ঠ হয়ে যাই।

ঘনিষ্ঠতার এক পর্যায়ে বিদেশী বন্ধু আপনাকে বন্ধুত্বের নিদর্শন স্বরূপ আপনার দেওয়া ঠিকানায় কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে একটি গিফট বক্স পাঠাবে। সে বক্সে আইফোন- আইপ্যাড ডলার -পাউন্ড সহ অন্যান্য মূল্যবান জিনিস থাকবে বলে জানাবে। আপনাকে গিফট পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য গিফটের ছবি তুলে এবং ভিডিও করে আপনাকে দিবে। আপনি সরল মনে বিদেশি বন্ধুর সমস্ত কার্যক্রম বিশ্বাস করে ফেলবেন। মনে মনে ভাববেন একজন মানুষ গিফট পাঠালে সমস্যা কি?

গিফট পাঠানোর এক থেকে দুইদিন পরেই এই চক্রের সদস্যরা ঢাকা বিমানবন্দর অথবা চিটাগাং বিমানবন্দর এর নাম করে আপনাকে ফোন করে আপনার নামে একটি পার্সেল এসেছে ‌ বলে জানাবে। বিষয়টি আপনাকে বিশ্বাস করানোর জন্য তারা সেই পার্সেলের একটি ছবি আপনার হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করে পাঠাবে এবং তিনি যে একটি কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন তা বোঝানোর জন্য তার আইডি কার্ডের একটি ছবি পাঠাবে।

কাস্টমস অফিসার অথবা কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিনিধি পরিচয়ে আপনাকে ফোন করে জানানো হবে যে আপনার নামে পাঠানো বক্সে মূল্যবান সামগ্রী এবং কিছু ডলার-পাউন্ড আছে ।আপনার বিদেশী বন্ধু এই জিনিসগুলো পাঠানোর সময় কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স বাবদ অর্থ পরিশোধ করেন নাই। আপনাকে এই বক্সটি নিতে হলে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স বাবদ নগদ ৪৮ থেকে ৬০ হাজার টাকা দিতে হবে। আপনি বিষয়টি বিদেশি বন্ধুকে জানালে সে বলবে ব্যস্ততার কারণে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স করতে পারেননি। কিন্তু সেখানে অনেক পাউন্ড আছে , কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স করে নেওয়ার পরেই তুমি সেখান থেকে এই অর্থ গুলি পরিশোধ করতে পারবে ।

আপাতত তুমি ধার করে ওদেরকে টাকা দিয়ে দাও।
আপনি অর্থ প্রদানের রাজি হলে কাস্টমস অফিসার পরিচয়দানকারী কিংবা কুরিয়ার সার্ভিস পরিচয়দানকারী ব্যক্তিটি আপনাকে কিছু ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নাম্বার দিবে অর্থ পরিশোধ করার জন্য। আপনি যখন অর্থ পরিশোধ করবেন তখন এ চক্রের সদস্যরা বলবে আপনার পার্সেল পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং একটি বড় মেশিনে সিটি স্ক্যান করা হচ্ছে।

বড় মেশিনে স্ক্যান করার পর প্রতারক চক্রের সদস্যরা আপনাকে জানাবে সেখানে ৫০ হাজারের অধিক পাউন্ড আছে এবং এটা এয়ারপোর্ট অথরিটির নজরে পড়েছে এবং এই অর্থ সন্ত্রাসবাদের কাজে ব্যবহৃত হবে না মর্মে Anti-terrorism সার্টিফিকেট প্রয়োজন হবে। এই সার্টিফিকেট নেওয়ার জন্য আপনাকে দুই থেকে তিন লাখ টাকা খরচ করতে হবে। প্রতারকদের দেওয়া ব্যাংক একাউন্টে অর্থ পরিশোধ করার পর তারা আপনাকে একটি ভুয়া Anti-terrorism সার্টিফিকেট দিবে।

প্রতারকরা এভাবে আপনাকে জাতিসংঘের সনদ, ইন্টারপোলের সনদ ইত্যাদি সনদ দেওয়ার নাম করে আপনার কাছ থেকে ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেবে ।

এভাবে ক্রমাগত অর্থ নেওয়ার পর প্রতারকরা একসময় আপনাকে জানাবে যে আপনার পার্সেল এর ভিতরে কিছু গোল্ড বার আছে এবং আপনি যদি এই গোলবার গুলি এখান থেকে টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে না নেন তাহলে আপনার নামে চোরাচালানের মামলা, মানিলন্ডারিং মামলা সহ বিভিন্ন মামলা হবে। প্রতারকরা এভাবে বিভিন্ন ভয়-ভীতি দেখিয়ে আপনার কাছ থেকে অর্থ আদায় করবে।

প্রতারকরা এইভাবে ছলে-বলে-কৌশলে গিফট পাঠানোর নাম করে আপনাকে প্রলোভিত করে আপনার কাছ থেকে আপনার কষ্টার্জিত টাকা হাতিয়ে নেবে। প্রকৃতপক্ষে এয়ারপোর্টে কোন গিফট আসে না। আপনাকে প্রতারিত করার জন্যই আপনার বিদেশী বন্ধু এবং তার এদেশীয় সহযোগীরাই পুরো বিষয়টি সাজায়।ব্যাপক গণসচেতনতাই পারে এ ধরনের প্রতারণা রুখতে। নিজে সচেতন হোন এবং অন্যকেও সচেতন করুন ।বিদেশি বন্ধুর পাঠানো গিফট এর বিনিময়ে বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্টে, বিকাশ নাম্বারে টাকা প্রদানে বিরত থাকুন।

এই প্রতারক চক্রের মূল কারিগর কিছু অসাধু নাইজেরিয়া নাগরিক এবং তাদের সহযোগিতায় থাকে তাদের মনোনীত বাংলাদেশী এজেন্ট।

এই সংবাদটি 254 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ