মাগুরায় ডা: লাবনীর রমরমা অপচিকিৎসা বাণিজ্য: পঙ্গুত্বের পথে গৃহবধু

প্রকাশিত: ১১:২০ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২, ২০২০

মাগুরায় ডা: লাবনীর রমরমা অপচিকিৎসা বাণিজ্য: পঙ্গুত্বের পথে গৃহবধু

 

এম.এ,অয়ন,মাগুরা প্রতিনিধি:

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর মাগুরা অপ চিকিৎসকদের উর্বরভূমি। এই জেলাতে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের অভাবে জনস্বাস্থ্য আজ হুমকির মুখে। আনাড়ি কিছু চিকিৎসকরা নিছক পয়সার লোভে রোগীদের উপর সার্জারি প্র্যাকটিস করছেন। এই আনাড়ি চিকিৎসকরা কেউ কেউ প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ টা অপারেশন করে খুব অল্প সময়ে কোটিপতি বনে যাচ্ছে, একটি অপারেশনের জন্য তাদের বরাদ্দকৃত সময় মাত্র ৫ মিনিট, সাধারণ মানুষের জীবন এদের কাছে মামুর হাতের মোয়া। ‌

এমনই একজন চিকিৎসক ডাঃ দিলারা আকবর লাবনী, গত ১লা জুন মাগুরার হাসপাতাল পাড়ার নিউ আল বারাকা ক্লিনিককে সকাল সাড়ে দশটায় শিমুলিয়া গ্রামের আব্দুল মাজেদের স্ত্রী মোছাঃ সাবিনা খাতুন (৩১) এর সিজারিয়ান অপারেশন করেন। সাবিনা খাতুন এই নিয়ে দ্বিতীয়বার মা হলেন, স্ত্রীর প্রসব বেদনা উঠতেই আব্দুল মাজেদ গ্রাম্য ডাক্তার মাসুদের পরামর্শে নিউ আল বারাকা ক্লিনিকে ভর্তি হন, ক্লিনিকের ম্যানেজার সাইফুল তাকে দ্রুত অপারেশন এর পরামর্শ দেন। উল্লেখ্য এই সাইফুল মাগুরা সদর হাসপাতালের একজন সরকারি কর্মচারী, সরকারি নিয়ম ভেঙে তিনি এই ক্লিনিকের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

১০ হাজার টাকার বিনিময়ে ম্যানেজার সাইফুল ডা: দিলারা আকবর লাবনীকে দিয়ে অপারেশনের বন্দোবস্ত করেন। ‌
ডাঃ লাবনীর সঙ্গে জুটি বেঁধে নিয়মিত অজ্ঞান চিকিৎসক হিসেবে নিয়মিত কাজ করেন ডাঃ মাশিউল, অপারেশনের সময় রোগী সাবিনা খাতুন এর মেরুদন্ডে ভুল ইনজেকশন ভুল প্রয়োগের মাধ্যমে রোগীর দুই পা পঙ্গু করেছেন ফেলেছেন। সাবিনা খাতুন গত এক মাস থেকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর কোনো শক্তি পাননা, পা দুটো এখনো অবশ। কয়েকবার রোগীর স্বামী আবদুল মাজেদ ডাক্তার ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা বিভিন্নভাবে রোগীকে দিয়ে বিভিন্ন টেস্ট করিয়েছেন ও বিভিন্ন মাত্রার এন্টিবায়োটিক ওষুধ দিয়ে আশ্বস্ত করে বলেছেন আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু রোগী এবং রোগীর স্বামী দাবি করেন আস্তে আস্তে রোগীর শরীর ভালো হওয়ার পরিবর্তে খারাপ হয়ে যাচ্ছে।‌

এ ব্যাপারে ডাঃ দিলারা আকবর লাবনী ও অজ্ঞান বিশেষজ্ঞ ডাঃ মাশিউল এর সাথে আলাপ করলে তারা জানান “আমরা প্রতিদিন এত অপরেশন করি এরমধ্যে দুই একটা ভুল হতেই পারে।” এদিকে রোগীর স্বামী আব্দুল মাজেদ একজন সামান্য টেইলার মাস্টার, করোনার মাঝে তেমন কোন কাজকর্ম নেই, ইতিমধ্যে ক্লিনিক এবং ডাক্তার যোগসাজশে তার ৪০ হাজার টাকা খরচ করিয়ে ফেলেছেন, রোগীর ক্ষতিপূরণের ব্যাপারে কথা বললে ডাক্তার ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

আজ ২রা জুলাই রোগীর স্বামী আবদুল মাজেদ বাদী হয়ে ডাক্তার দিলারা আকবর লাবনী ও ক্লিনিক ম্যানেজার মোঃ সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে মাগুরা সদর থানায় এজাহার দায়ের করেন। মাগুরা সদর থানার ওসি জয়নুল আবেদিনের সঙ্গে আলাপ করলে তিনি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। এদিকে মাগুরার সিভিল সার্জনের সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

অন্যদিকে, ডা: দিলারা আকবর লাবনী মাগুরার গ্রামীণ ল্যাবে নিয়মিত রোগী দেখেন ও অপচিকিৎসা করেন। তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আরো অসংখ্য রয়েছে এগুলো তদন্ত করার জন্য সাধারণ মানুষ দাবি করেছেন।

এই সংবাদটি 964 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ