সোনার বাংলায় কাঁদছে ত্রিশ হাজার শিক্ষক

প্রকাশিত: ১২:২৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০২০

সোনার বাংলায় কাঁদছে ত্রিশ হাজার শিক্ষক

 

কবি এম আর ঠাকুর।।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে 11 অক্টোবর 2020 থেকে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রত্যাশীদের অবস্থান কর্মসূচি আজ পযর্ন্ত চলমান।

 

২০১৮ সালের প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় (লিখিত ও মৌখিক) উত্তীর্ণ 37 হাজার প্রার্থীর প্যানেল গঠন করে নিয়োগ দেওয়ার দাবি নিয়ে হাজার হাজার প্রার্থীরা রাজপথে।

 

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্যানেল প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আব্দুল কাদের প্রথম বলেন, ‘২০১৮ সালের প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন প্রায় ২৪ লাখ। এই পরীক্ষায় ৫৫ হাজার ২৯৫ জন উত্তীর্ণ হন। তাঁদের মধ্যে ১৮ হাজার 147 জন সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। বাকীদের প্যানেলে নিয়োগ দেওয়া হোক।

 

প্যানেল প্রত্যাশীরা বলেন,২০১৪- ২০২০ এখন পর্যন্ত মাত্র একটি সার্কুলার পেয়েছি। আমরা সেশনজটে আটকে ছিলাম। আমাদের অনেকেরেই এরই মধ্যে বয়স শেষ হয়ে গিয়েছে। আমরা নতুন সার্কুলারে অনেকেই এ্যাপলিকেশন করতে পারব না। যেহেতু সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরিক্ষা ২০১৮,, ৮ বিধিতে উল্লেখ ছিলো যে শুন্যকোটার ভিওিতে নিয়োগ দেয়া হবে,,,কিন্তুু শুন্যপদ থাকা সত্ত্বেও মাত্র ১৮১৪৭ জন কে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয় এবং এই ১৮১৪৭ জনের মধ্যে থেকে ৪৫০০ জন জয়েন্ট করেনি,, সংসদে দাড়িয়ে বলেছিলেন যে ২২০০০ শুন্যপদ রয়েছে,,তাহলে আমরা বলতে চাই ২২০০০+৪৫০০ মোট ২৬৫০০ পদ তখন ও শুন্য ছিলো। তাহলে কেনো এতগুলো শুন্যপদ থাকতেও আমাদেরকে কেনো নিয়োগ দেয়া হলোনা? সাবেক ডিজি ফসিউল্লাহ স্যার বলেছেন, ভাইবা তে কোন ফেল নাই এটেনড করলেই ১৪/১৫ পাওয়া যায় তাহলে কেনো এতো শুন্যপদ থাকতেও আমাদের নিয়োগ দেয়া হলোনা? সারা বাংলাদেশ থেকে ১৮০ জন এমপি,, মন্ত্রী,, ডেপুটি স্পীকার,, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী,,সহ অনেকেই ডিও লেটার দিয়ে আমাদের জন্য সুপারিশ করেছেন,,এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় ও আমাদের প্যানেল এ নিয়োগ দেয়ার জন্য জোর সুপারিশ করা হয়। তাহলে যে দেশে ১৮ কোটি জনগনের মধ্যে ১০ কোটি জনগনের যারা জনপ্রতিনিধি তারা আমাদেরকে প্যানেলের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার জন্য যে সুপারিশ করেছেন সেগুলোর কোন মূল্য নেই? তারপরেও মানবতার মা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের আকুল আবেদন এই যে দেশের এই করোনা সংকটে মানবিক দিক বিবেচনা করে হলেও আমাদের এই ৩০০০০ জন কে প্যানেলের মাধ্যমে নিয়োগ দিয়ে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি দিন। আমরা আপনাকে কথা দিতেছি প্যানেলের মাধ্যমে নিয়োগ দিলে, যে সকল কোমলমতি শিশুরা বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়েছে,,আমরা তাদেরকে আবার বিদ্যালয়মুখী করব ও তাদের এই দেশ গড়ার কারিকর হিসেবে গড়ে তুলব ইনশাআল্লাহ।

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্যানেল প্রত্যাশীরা আরো জানান, ১৫ অক্টোবর মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে তাঁরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলেন। কিন্তু পুলিশ সেখানে মারধর করে। এতে তাঁদের ৩০ জন আহত হন। ১০ জন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

 

কেন্দ্রীয় কমিটির দেওয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে প্রায় ৫০ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষকের পদ খালি আছে। এই অবস্থায় কোভিড পরিস্থিতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সার্কেল প্যানেল করে তাঁদের সরাসরি নিয়োগের দাবি জানানো হয়েছে।

 

চাকরিপ্রত্যাশী ইমরুল হাসান বলেন, করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার ৩৯তম বিসিএস থেকে প্যানেল করে ২ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দিয়েছে। তাহলে কেন প্রাথমিক সহকারী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৩৭ হাজার ১৪৮ জন বঞ্চিত হবেন?

এই সংবাদটি 625 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ