মৃত্যুর পথে প্যানেল শিক্ষক নিয়োগ প্রত্যাশীরা…

প্রকাশিত: ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৪, ২০২০

মৃত্যুর পথে প্যানেল শিক্ষক নিয়োগ প্রত্যাশীরা…

মৃত্যুর পথে প্যানেল শিক্ষক নিয়োগ প্রত্যাশীরা…

কবি এম আর ঠাকুর

২০১৮ সালে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ 37 হাজার প্রার্থীকে প্যানেল করে নিয়োগের দাবিতে অবস্থান নিয়েছেন নিয়োগ প্রত্যাশীরা। টানা দুইদিন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান করে তৃতীয় দিন থেকে আজ চতুর্থ দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে প্যানেল শিক্ষক নিয়োগ প্রত্যাশীরা। এ সময় অনেকেই কাফনের কাপড় গায়ে রাজ পথে শুয়ে মানবতার মা জননেত্রী প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ডাকছেন।

 

শিক্ষাজীবনে সেশনজটের কথা উল্লেখ করে চাকরিপ্রত্যাশীরা বলেন, আমাদের পড়ালেখার সময় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চরম সেশনজট ছিল। অন্যদিকে, সার্টিফিকেট পাওয়ার পর হাইকোর্টের রিট জটিলতার কারণে ২০১৪-২০১৮ পর্যন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের কোনো বিজ্ঞপ্তি হয়নি। এমনকি ২০১০ থেকে ২০২০ পর্যন্ত কোনো প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও হয়নি। যদিও বর্তমানে চরম শিক্ষক সংকট বিদ্যমান। এদিকে করোনার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুও করা যাচ্ছে না। অথচ আগে ৬ মাস পর পর সহকারী শিক্ষক ও ২ বছর পর পর প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করা হতো। তাই আমরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। এসময় সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা শেষ হওয়ায় এটাই তাদের শেষ সুযোগ বলেও উল্লেখ করেন তারা।

 

তারা আরও বলেন, জাতীয় সংসদের তথ্য মতে, ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত শূন্য পদের সংখ্যা প্রায় ২৯ হাজার। নতুন বছরে অনেক শিক্ষক অবসরে গেছেন। সে হিসেবে বর্তমানে শূন্যপদের সংখ্যা ৪০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। একটি নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করতে প্রায় দেড় থেকে ২ বছর লেগে যায়। এছাড়াও পিটিআই, বিপিএড, মাতৃজনিত ছুটি, চিকিৎসা জনিত ছুটি ও বদলি জনিত কারণে সারা বছরেই প্রায় ২৫-৩০ শতাংশ পদ শূন্যই থেকে যায়। ফলে তীব্র শিক্ষক সংকটে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

 

প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, মুজিববর্ষে কেউ বেকার থাকবে না। এছাড়া ঘরে ঘরে চাকরি দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেলিন তিনি। তাই আমরা আশা করি, মুজিববর্ষে এই ৩৭ হাজার চাকরি প্রার্থীকে প্যানেল করে নিয়োগ দিলে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির অনেকাংশ বাস্তবায়ন হবে। কারণ, দেশের ৬১টি জেলার সব উপজেলার যোগ্য প্রার্থীরাই লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে।

 

নিয়োগপ্রত্যাশীরা বলেন, বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মদিনে তার আদর্শ কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমাদের জোড়ালো দাবি, তার পিতার মতো যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে মুজিব জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৩৭ হাজার মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী বেকার ও তাদের পরিবারের সবার মুখে হাসি ফুটাবেন।

 

সর্বশেষ, তাদের এ অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে আজ দুপুরে শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক, তাদের দাবীর লিখিত আবেদন গ্রহণ করেন। এ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর গোয়েন্দা সংস্থা এসব অনুলিপি সংগ্রহ করে।
এ সময় প্যানেল প্রত্যাশীরা বলেন লিখিত ঘোষণা ব্যতীত আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব।

এই সংবাদটি 996 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ